সাড়ে তিন বছরে প্রথমবার মুনাফা কমল বিওয়াইডির

তিন বছরের বেশি সময় পর প্রান্তিক ভিত্তিতে মুনাফা কমেছে চীনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতা বিওয়াইডির।

তিন বছরের বেশি সময় পর প্রান্তিক ভিত্তিতে মুনাফা কমেছে চীনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতা বিওয়াইডির। গাড়ি কোম্পানিগুলোর অব্যাহত মূল্যযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং, যার প্রভাব পড়েছে বিওয়াইডির বিক্রিতে। খবর রয়টার্স।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইভি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিওয়াইডির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৪০ কোটি ইউয়ান বা ৮৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের বেশিতে। এটি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ কম।

এর আগে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বিওয়াইডির মুনাফা বেড়েছিল ১০০ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে ৩০ জুন শেষ হওয়া প্রান্তিকে কোম্পানির আয় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯০ কোটি ইউয়ানে।

মার্কিন ইভি নির্মাতা টেসলার সবচেয়ে বড় চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী বিওয়াইডি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি গাড়ি শিল্পে দাম কমানোর প্রতিযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানালে খাতজুড়ে মুনাফার মার্জিনের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ৫৫ লাখ ইউনিট গাড়ি বিক্রির লক্ষ্য স্থির করেছে বিওয়াইডি। তবে বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করেছে ২৪ লাখ ৯০ হাজার গাড়ি, যা লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কম বা ৪৫ শতাংশ।

গত ১২ আগস্ট নোমুরার বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দেন, চলতি বছর বিওয়াইডি ৫০-৫২ লাখ ইউনিট গাড়ি বিক্রি করতে পারবে।

বিওয়াইডির গাড়ি বিক্রি বাবদ আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে চীনা বাজার থেকে। কিন্তু জুলাইয়ে কোম্পানিটি টানা তৃতীয় মাসে স্থানীয় বাজারে বিক্রির পতন দেখে। শুধু বিক্রির পতনই নয়, ১৭ মাসের মধ্যে জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো উৎপাদনও কমে যায়।

এর আগে জুনে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনে উৎপাদনের গতি কমিয়েছে বিওয়াইডি এবং কারখানা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে। ওই মাসে চীনা কর্তৃপক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ ও মূল্যযুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেয় গাড়ি নির্মাতাদের। বিওয়াইডিসহ বড় বড় অটোমেকাররা তা মেনে চলার অঙ্গীকার করে।

এর পর থেকেই বিওয়াইডি ও অন্যান্য গাড়ি নির্মাতার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল কমছে। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হলো কোনো প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সম্পদ ও বর্তমান দায়ের ব্যবধান। দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে কত অর্থ কোম্পানির হাতে রয়েছে এর মাধ্যমে বোঝা যায়।

৩০ জুন পর্যন্ত বিওয়াইডির ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২৭০ কোটি ইউয়ান। মার্চ শেষে এ ঘাটতি ছিল ৯ হাজার ৫৮০ কোটি ইউয়ান। ২০২৪ সালের শেষে ছিল ১২ হাজার ৫৪০ কোটি ইউয়ান।

জুন শেষে বিওয়াইডির ঋণ-সম্পদ অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ১ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ।

আরও